মায়ামানবী

মানব সুরত

(গ্রন্থ: মগ্ন মহাকাল)

তোমার বাড়ির পেছনে যে বাঁশঝাড়, তার পাশেই ঝরে পড়ে সোনালু ফুল, গন্ধমাদন ঢিবির মতো ফুলে-ফেঁপে ওঠে ডাঁশ পিঁপড়ের সুখনিবাস আর কানে ভেসে আসে জলপিপির বাদামী ডিম নিয়ে ডাহুকের ডাক-চিৎকার!

তোমার বাড়ির নিকানো উঠোন ভেসে যায় বর্ষার জলে, স্যাঁতসেঁতে প্রেমে মহীলতার গায়েও জেগে ওঠে ষড়পদ, তখন বনজুঁইয়ের সন্ধানে উত্তরের ভিটায় পা ফেলতেই চোখে পড়ে গন্ধমবৃক্ষের বাড়-বাড়ন্ত! সে বৃক্ষের পান্ডু-কোটরে বেনেবউয়ের বাস! লাল-ঠুঁটো হলদে বেনেবউ! বেনেবউয়ের ডানায় ডানায় উড়ে বেড়ায় বেনেবর, একসাথে পাল তোলে পূবালী বাতাসের নরম স্রোতে!

যে বসন্তে তোমার পায়ে ভাঁটফুল ঘুঙুর সাজায়, সে গ্রীষ্মে হিজলের ফুল গেঁথে দেয় রূপসী নূপুর! তুমি সাজো উদার হাসিতে, থোকা থোকা বেতস ফলের মতো হাসি ঝুলে থাকে সবুজ মুখটি জুড়ে, হাসির গমকে কাঁপে মাংসল লাস্য! সে লাস্যে মায়াবতী মিশে যায় মানবের বুকে, মায়া-মৃত্তিকার বুক জুড়ে জেগে ওঠে নতুন জীবন ও মানবিক সন্তান!

জলাঙ্গী-মন: নোয়াই নদের জল বয়ে যায় মোহনায়, কখনও কখনও জেগে ওঠে বিপ্রতীপ প্রেম, কটাল কটাল টানে উজানে বয় নরম যৌবন, পোয়াতী রমণীর মতো ফুলে ওঠে ধলেশ্বরীর রসাল শরীর! তখন স্রোতের বুকে মায়াবী বেদেনীর অঙ্গ ধারণ করো তুমি, আমি বাড়াই লখাইয়ের দুরন্ত পৌরুষ!

মায়াবতী, এই বিত্ত আর চিত্তের দাহকালে, তুমি হয়ে যাও মায়া-মানবী, আমি ব্রহ্মার মায়াবী চুম্বন!