নতুন রাজধানীর কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

গত ৩০ অক্টোবর ২০২৪ বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমি ৭০ দশকের অন্যতম প্রধান কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে ‘নতুন রাজধানীর কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন, কবি ও সাংবাদিক সাখাওয়াত টিপু। বক্তব্য রাখেন, জাতীয় কবিতা পরিষদের আহবায়ক কবি মোহন রায়হান, রুদ্র সংসদের সভাপতি এবং রুদ্রর ছোট ভাই সুমেল সারাফাত, সূচনা বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমির সচিব মোঃ নবাব আলী। সভায় সভাপতিত্ব করেন, বাংলা একাডেমি মহা পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
প্রবন্ধকার উল্লেখ করেন, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ এমন এক দেশের মানচিত্র এঁকেছেন যে দেশ ক্ষমতাতান্ত্রিক নয়, যে দেশ গণতান্ত্রিক, গণমানুষের, যে দেশ বাক স্বাধীনতা হরণের নয়, যে দেশ মুক্ত মনের, যে দেশ খুনের নয়, স্বাভাবিক জীবনের, যে দেশ নির্যাতকের নয়, যে দেশ মানবিকতার, যে দেশ নিষ্ঠুরতার নয়, যে দেশ প্রেমের, যে দেশ স্বৈরাচার প্রকোষ্ঠের নয়, যে দেশ জনগণের, যে দেশ শোষণের নয়, যে দেশ সমবন্টনের। রুদ্রের কবিতার দিকে তাকালে আমরা অভূতপূর্ব এক দেশ দেখতে পাই। দেশটা একটি শ্রেণীহীন সমাজের নতুন রাজধানী, যেখানে জীবন আর প্রাণ একাকার সেই রাজধানীর স্বাধীন একজন কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহকে আমরা সালাম জানাই।’
মোহন রায়হান বলেন, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা- সমতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ঘুম, খুন, হত্যা, দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করলে রুদ্র তার বিরুদ্ধে কলম ধরেন। পরবর্তীতে সামরিক শাসন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনরুত্থান ঘটলে রুদ্র তার বিরুদ্ধে কলম ধরেন, লিখেন রুদ্রের সেই ঐতিহাসিক কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধেও রুদ্রের কলম গর্জে ওঠে। স্বৈরশাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রুদ্র রাজপথের আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ এবং ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’

সোমেন সারাফত বলেন, আমাদের বাবা নিজে একজন ডাক্তার ছিলেন তার স্বপ্ন ছিল তার বড় ছেলে রুদ্রকে তিনি ডাক্তার বানাবেন কিন্তু রুদ্র দেশ এবং মানুষকে ভালোবেসে কবি হন। তার কবিতার প্রধান উপজীব্য তাই প্রেম এবং দ্রোহ।’

অধ্যাপক মোহম্মদ আজম বলেন, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্ তার সময়ে ঢাকা শহরের একজন প্রতাপশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। এরশাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেটা সম্ভব হয়েছিল। কবি মোহন রায়হান, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র একইসঙ্গে রাজনৈতিক সংঙ্গী এবং কাব্য সঙ্গী ছিলেন এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। রুদ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, রাজনীতি সচেতন হয়েও তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বোহেমিয়ান একজন মানুষ। তার জীবন এবং কবিতায় আমরা সেই প্রতিফলন দেখি।’