গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর, সন্ধ্যায় ধানমন্ডির অবসর ভবনে ‘যুক্তধারা’ প্রকাশনার হলরুমে আমাদের অকাল প্রয়াত বন্ধু কবি, সাংবাদিক এবং অঙ্কন শিল্পী মোশতাক দাউদীর ১১তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্মৃতিচারণ ও কবিতাপাঠ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা।
কবি তারিক- উল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- মোশতাক দাউদীর বোন হাসিনা সুলতানা হাস্নু, জেসমিন সুলতানা বিনু, ইয়াসমিন সুলতানা রিনু, দাউদীর সহপাঠী বন্ধু কবি আপেল আব্দুল্লাহ, কবি হাবিবুর রহমান হাবু, জাহিদুল হক বাবুল, রবিউল আলম রবু, কবি ও আবৃত্তিকার নিশাত জাহান রানা ও সহপাঠি বন্ধু কবি মোহন রায়হান।
মোশতাক দাউদীর কবিতা পাঠ করেন- কবি আপেল আব্দুল্লাহ, কবি ফিরোজ আহমেদ, ইয়াসমিন সুলতানা রিনু। তাঁর কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন, সাংবাদিক ও আবৃত্তিকার মুশফিকা নাজনীন, ফারহানুর রহমান অপি, আবৃত্তিকার নিশাত জাহান রানা।
বক্তারা- মোশতাক দাউদীর বিচিত্র জীবনের নানা বৈচিত্রময় ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। মানুষের সমতায় বিশ্বাসী দাউদী একাধারে ছিলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, কবি ছড়াকার এবং অঙ্কন শিল্পী।
সহজসরল, মিশুক, সদাহাস্যোজ্জ্বল, অমায়িক, সৎ এবং মানুষের জন্য নিবেদিত এক আশ্চর্য জীবন দাউদী ধারণ করতেন মোশতাক দাউদী। মানুষকে ভালোবাসার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল দাউদীর। সৎ, নিঃস্বার্থ, পরোপকারী, বন্ধুপ্রাণ দাউদীকে তাই বন্ধুরাও ধারণ করেন, মননে-মেধায়, চেতনায়, হদয়ের গভীরে অকৃত্রিম ভালোবাসায়।
তারা বলেন, আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো কেউই মোশতাক দাউদীকে ভুলতে পারবো না। দাউদী সবসময়ই আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা সব সময়ই ওকে মনে রাখি। এবং প্রতি বছর ২৬ শে সেপ্টেম্বর ওর প্রয়াণ দিবসে সবাই একত্রিত হই বিশেষভাবে ওকে স্মরণ করার জন্য।
দাউদীর সেজবোন হাসিনা সুলতানা বলেন- মোশতাকের বন্ধুরা যেভাবে ওকে ভালোবাসে, মনে রাখে, তাতে আমি আমার ভাই হারানোর বেদনা ভুলে থাকতে পারি। প্রতি বছর এই দিনে আমি তাই সবকিছু ফেলে আমার ভাইদের ডাকে ছুটে আসি।’
কবি আপেল আব্দুল্লাহ বলেন, দাউদীর মতন ভালো মানুষ এবং বন্ধু আর হয় না। নির্লোভ ও নিঃস্বার্থ বন্ধুটি সবার জন্য করে গেছেন কিন্তু চাননি কারো কাছে কিছুই। কবি এবং লেখক হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত শক্তিমান একজন। তার প্রতিটি কবিতা ও ছড়া শিল্পগুণে কালোত্তীর্ণ কিন্তু তিনি সংরক্ষণ করেননি কোন কিছুই। আমরা তাঁর স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করলেও তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের চেষ্টা করছি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর লেখাগুলো সংগ্রহের মাধ্যমে।’
কবি মোহন রায়হান বলেন- যদিও আজ দাউদীর প্রয়াণ দিবস কিন্তু আমি বলব, আজ দাউদীর জাগরণ দিবস, যদিও আজ দাউদীর মৃত্যু দিবস কিন্তু আমি বলব, আজ ওর জন্মদিন। এইদিন দাউদী নতুনভাবে আমাদের মাঝে জেগে ওঠে, নতুনভাবে জন্ম নেয়। দাউদী আছে, থাকবে এমনকি আমাদের মৃত্যুর পরেও দাউদী বেঁচে থাকবে নতুন প্রজন্মের কাছে, ওর লেখায় ওর কর্মের মাধ্যমে।

