বধূ

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

গলির মোড়ে বেলা যে পড়ে এল
পুরনো সুর ফেরিওলার ডাকে,
দূরে বেতার বিছায় কোন্‌ মায়া
গ্যাসের আলো-জ্বালা এ দিনশেষে ।
কাছেই পথে জলের কলে, সখা
কলসি কাঁখে চলেছি মৃদু চালে
হঠাৎ গ্রাম হৃদয়ে দিল হানা
পড়ল মনে, খাসা জীবন সেথা।
সারা দুপুর দীঘির কালো জলে
গভীর বন দুধারে ফেলে ছায়া।
ছিপে সে-ছায়া মাথায় কর যদি
পেতেও পার কাৎলা মাছ, প্রিয় ।
কিংবা দোঁহে উদার বাঁধা ঘাটে
অঙ্গে দেব গেরুয়া বাস টেনে
দেখবে কেউ নখ বা কেউ জটা
কানাকড়িও কুঁড়েয় যাবে ফেলে।
পাষাণ-কায়া, হায় রে, রাজধানী
মাশুল বিনা স্বদেশে দাও ছেড়ে;
তেজারতির মতন কিছু পুঁজি
সঙ্গে দাও, পাবে দ্বিগুণ ফিরে।
ছাদের পারে হেথাও চাঁদ ওঠে
দ্বারের ফাঁকে দেখতে পাই যেন
আসছে লাঠি উঁচিয়ে পেশোয়ারি
ব্যাকুল খিল সজোরে দিই মেলে।
ইহার মাঝে কখন প্রিয়তম
উধাও; লোকলোচন উঁকি মারে—
সবার মাঝে একলা ফিরি আমি
লেকের কোলে মরণ যেন ভালো।
বুঝেছি কাঁদা হেথায় বৃথা; তাই
কাছেই পথে জলের কলে, সখা
কলসি কাঁখে চলছি মৃদু চালে
গলির মোড়ে বেলা যে পড়ে এল।।