বন্দনা করি
বন্দনা করি এদেশেরই অনার্য পিতার
শ্যাম চামড়ার শ্যামল মানুষ মাটি শ্যামলার,
খাঁটি মানুষ যারা ২ রক্তধারা দিয়েছে মিশায়ে
এদেশেরই মাটি জলে নওল নোনা বায়ে,
যারা মাটির ছেলে ২ কৃষক জেলে শ্রমিক সর্বহারা
এই জাতির রক্তে দিছে শক্ত শ্রমের ধারা,
যারা গাঁয়ে থাকে ২ গায়ে মাখে বৃষ্টি রোদের প্রেম
আষাঢ় মাসের কাদায় বোনে শস্য-সুখের হেম,
বোনে দুঃখ জরা ২ রক্ত-ঝরা জীবন যুদ্ধের গান,
যাদের হাড়ে মাংশে ফোটে আন্দোলনের ধান।
বাজান করতালি, ২ সবকে বলি. পদ্য আমার শুরু
প্রনতি জানাতাম যদি থাকতো কোনো গুরু
কিন্তু হতভাগ্য, ২ দুরারোগ্য ব্যারাম সারাদেশে
কোনো তথ্যে, কোনো পথ্যে সারে না সে-ব্যাধি।
দ্যাখো চতুর্দিকে, ২ নিচ্ছে শিখে ছেলে. বুড়ো. নারী,
তেল মালিশের নানা কৌশল নানা ছল-চাতুরি।
এবার সুদিন এলো, ২ পাওয়া গেল পানির নিচে গ্যাস,
সাগরে ভাই পাওয়া যাবে আরো তেলের রাশ।
বলো মারহাবা, ২ তেল পাইবা, পাইবা তেলের পা,
দরকার মতো সেই পায়েতে তেল লাগাইয়া যা।
কোনো চিন্তা নেই, ২ ধেই ধেই নাচো দিয়ে কাছা
মামা ভাগ্নে নাইবা র’লো আছে আইনের চাচা।
আমরা হাঁদা-হাবা, ২ মার বাবা বেঁধে হাত ও পা,
চিরকালই খাবো আমরা ফরেন লাঠির ঘা।
বড়ো কষ্ট মনে, ২ এ-অরন্যে বাঁচা ভীষন দায়
রাজার হাতি ছাইড়া দিছে সকল কিছু খায়,
কোনো বিচার হয় না, ২ আছে জানা আইনের সব ফাঁক,
আইন তৈরি করেন যারা তাদের সবি মাফ।
আহা বঙ্গদেশ, ২ রঙ্গ বেশ কতো রঙ্গের খেলা,
তন্ত্রে মন্ত্রে যুদ্ধ চলছে, চলছে শিল্প-মেলা।
আমরা চুনোপুঁটি, ২ গুটিশুটি থাকি ঘরের কোনে,
রুই বোয়ালের বড়ো বুদ্ধি বড়ো যে তার মানে।
তবু যেটুক বুঝি, ২ তাই পুঁজি, তা-ও হয় যে মিস্,
গাছপালা কাইটা ঢাকার বানাইছে প্যারিস!
বড়ো ভালো চিন্তা, ২ নাচো ধিতা, ধিতা ধিনা ধিনা,
বাংলাদেশে প্যারিস পেলে মজার নেই তো সীমা।
‘ওরা নষ্ট লোক, ২ করে শোক গেরাম গেরাম বোলে
বাংলাদেশকে ঢোকাবো ভাই রাজধানীর খোলে—’
বলেন চিন্তাবিদ, ২ দিকবিদিক জ্ঞানের মধ্যে পোকা,
নামের শেষে নানা হরফ মানুষকে দ্যায় ধোকা।
করে বুদ্ধি বন্টন, ২ হাতে লণ্ঠন, দিবালোকের চোর
ডলার রুবেল দিনার পেয়ে কাটে না আর ঘোর।
আমরা সবি জানি, ২ কতোখানি কারা কোথায় আছে,
কে কতোটা জলে. তলে. কে কতোটা গাছে।
কারা ছদ্মবেশী, ২ বাইরে দেশি, বিদেশি ভেতরে
সময় মতো মুখোশ খোলে, সময় মতো পরে।
এরাই মূল শত্রু, ২ পাপের গুরু সমাজের জীবানু,
মনের মধ্যে ক্ষত এদের বাইরে সুশ্রী তনু।
ভাইরে বিশ্বাস করো, ২ বুকে বড়ো ব্যথার আগুন জ্বলে,
আর্ত মানুষ পিষে ওরা সুখের দালান তোলে।
দেশে নানা শ্রেনী, ২ বাড়ায় গ্লানি, হিংসা ও বিদ্বেষ
সব কথার গোড়ার কথা বলছি আমি শেষ
মানুষ সচেতন হও, ২ মুখোশ হটাও, ভাঙো শ্রেনীভেদ
দেশের মাংশে পচন তারে করতে হবে ছেদ।
বাজাও খোল করতাল, ২ আর কতোকাল মুখোশ প’রে রবে,
বুকের স্বপ্ন বাজাও এবার জাগরনের রবে।
ফেরো নিজের ঘরে, ২ নিজ সংসারে স্বজনের উঠোনে,
সমান ভাবে ভাগ কোরে নাও বেঁচে থাকার মানে।
মানুষ কষ্টে আছে, ২ কষ্টে বাঁচে হাজার গ্রামের লোক,
স্বপ্নবিহীন জীবন তাদের হৃদয় ভরা শোক।
তাদের বন্দনা গাই, ২ বুকে সাজাই সময়ের ইতিহাস
এই জাতির আনন্দ. সুখ. দুঃখ. দীর্ঘশ্বাস।
পরাজয়ের গ্লানি, ২ টানছি ঘানি আজো জানি তার,
আলোর ঘায়ে খুললো না কেউ অন্ধকারের দ্বার।
ছিলো শক্ত পেশী, ২ যে বিশ্বাসী সমুন্নত হাত
ছিঁড়লো না সে রক্ত-চোষা অবিচারের রাত।
ছিলো নিজস্ব গান, ২ নিজের পরান, নিজের বাড়ি ঘর
মাল মশলা নিজের ছিলো নিজের কারিগর।
ছিলো নদীর ভাষা, ২ ভালোবাসা বেহুলার সাম্পান
তবু লখিন্দরে আজো পেলো না পরান।
যতো বিজ্ঞজনে, ২ আয়োজনে ব্যস্ত যে শহরে
নিজের সুখের ঘর গড়তে দুখী মাইষের হাড়ে।
তাদের বলি শোনো, ২ যদি কোনো না-করো উপায়
হাজার মানুষ ভাঙবে ও-সুখ হাজার হাতের ঘায়।
কোনো নিষ্কৃতি নাই, ২ আমি জানাই শোনো স্বার্থপর—
আর্ত মানুষ কেড়ে নেবে তাদের অধিকার।
তারা জেগে উঠছে, ২ ছুটে আসছে, বুকে সত্য আলো,
তাদের আগমনের বার্তা রুদ্র বইলা গেল।
আমার পদ্য শেষ, ২ এই দেশ, এ মাটির বাঙালি,
আমার ভালোবাসার অস্ত্রে সাহস ওঠে জ্বলি।
ওঠে রনবাদ্য, ২ যা আরাধ্য, প্রার্থনা যা মনে
সমস্ত আরতি আমার বিশ্বাসের চরনে –
তুমি শক্তি দিও।।

