কত সহজেই ফুরিয়ে যায়
পথ, পাথেয় ও পথিকের গন্তব্য!
কত সহজেই পরিযায়ী পাখির ডানায় জমাট বাঁধে
শরীর ও স্বপ্ন-ভঙ্গের জগদ্দল, হায়—
পাখির ডানা ভারী হয়ে ওঠে
রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমা হয় উদ্বায়ী কর্পূর
মিটে যায় অন্তরীক্ষে— দেশ ও দশার
ক্লান্ত দায়ভার!
কত সহজেই শেষ হয়ে যায়
পাখি ও পথিক হবার বাসনায়
ফেলে আসা পদচিহ্নের ছোপ ছোপ বর্ণমালা, আর
নিদারুণ সময়ের বুকে টুকে রাখা
মানুষের জীবন-কবিতা!
কবিতা যে ছন্দেরই হোক না কেন
মিশ্র কিংবা অমিত্রাক্ষর— অকস্মাৎ যতিচিহ্ন নামে
সে কবিতার গায়ে, নামে সমাপ্তির অবোধ্য গিলোটিন!
(জন্মমাত্র সুতীব্র অহমে যে কবিতার সূচনা
আঙ্গিক বিন্যাসে তার সময়ের দ্যোতনা মাত্র)
…যখন ফুরায় সময়
টুটে যায় আত্মিক রেশ
আচমকা থেমে যায় কবিতার বিপুল শরীর।
তখন পাথর নামে প্রিয়জনের চোখে
বুকে জাগে বিরহের সকরুণ প্রেম, ক্ষয়ে যায় আশা
বিশ্বাসের শিকড় পরায় গায়ে সাদা আচকান।
তখন সমগ্র মোহ-মায়া পেছনে ফেলে
কবি ও কবিতার অগণিত শব্দমালা
স্মৃতির ধুলো ও মৃত মাছের মতো চোখ নিয়ে
মিশে যায় মাটিতে, চিরতরে, সমলিন।
এমনি করে আমি যেদিন
শোবো মাটির খাটিয়ায়
পরবো সাদা কাফন
তুমি সেদিন—
আমার জীবন-কবিতার নামে
একটি সাদা শাড়ি পরো।

