ত্রিকালান্ধ কাক

মানব সুরত

(গ্রন্থ: মগ্ন মহাকাল)

সব ভুল ইতিহাস হয় না
কিছু কিছু ভুল কবিতাও হয়ে যায়!

শুক্লা পঞ্চমীর চাঁদ জাগিয়ে রাখে
জোনাকীর গাঁও, অলি-গলি, নিয়ন-নগর।
সন্ধ্যার পরে ভোর, গোধূলি আর প্রত্যুষ–
মাঝে কোনো রাত্রি নেই!
কানে ভেসে আসে নিঃশব্দ দূষণ
চোখে জড়ো হয়ে উবে যায় বিনিদ্র ঘুম।

তবুও ভুল করে ভুল হয়
ভুল বাড়ে সংখ্যায়, ভুল বাড়ে চেতনায়!

সময়ের টানে লাটিমের কেন্দ্র
ঘুরে ঘুরে আর বৃত্ত হয় না–
পরিধিই রয়ে যায়! সরলরেখার বাঁকে বাঁকে
আহ্নিক গতিও ভুলে যায় তার চক্রপথ!
শুরু-শেষ এক হয় না, সরে সরে যায় দূরে!

এমন ভুল তো অন্তর্জলি
এমন ভুল তো অগস্ত্যযাত্রা!

উঠোনে সাত মন ঘি, গরম তুলসীমালা
শুধু লংকার ফোড়ন নেই বলে
ছন্দ হারায় শ্রীরাধার যুগল নৃত্য।
রাধাই সীতা, সীতাই মৈথিলি। নারী তোমার
গন্তব্য কোথায়- মিথিলা, লঙ্কা না-কি অযোধ্যা?
উত্তরে দ্বিধান্বিত জনদাস, দক্ষিণে প্রেমান্ধ অপুরুষ!
মাঝে অধরা প্রেমের সঙ্গমবঞ্চিত বিরহী দশাননঃ
পুড়ে না সীতার সতীত্ব যৌবন, অথচ বিশ্বাসের
ফোড়নশূন্য রাম হয়ে যায় নীতির গবলিন।
হায়, আজকের রাম সতী নয়, সীতা চায়!

ভুলের পরম অর্থ হলো প্রেম
ভুলের নির্ভুল উপমার নাম বিরহ!

জিউসের বীজ পেলে জমিন প্রস্তুত, জন্ম নেয়
ডেমিগড। এখানে-সেখানে নিরুপায় ওথেলো
খুঁজে ফেরে প্রেমের মোহর, ক্যাসিওর ছায়ায়
বুনে চলে সন্দেহের রুমাল, ইয়াগোর কামনায়
নশ্বর হয়ে উঠে দেসদিমোনার উষর জমিন!

ভুলের অপর নাম ডায়োজিনিস
ভুলের অপর নাম সক্রেটিস!

ও কাক, নীলাভ ধূসর কাক, আলোতে অন্ধ হও!
গাঢ় অন্ধকারে সূর্য তার কামনা ছড়িয়ে
জন্ম দেয় আলোর বীর্য।
ও কাক, তুমি সবীর্য সূর্য হও!
পোড়া প্রাণের পৃথিবীতে আনো নরম সবুজ
নতুন জীবনে ছড়িয়ে যাক আলোর উত্তরপুরুষ!
ও কাক, তুমি মানব হও!
পূর্বরাগের পঞ্চামৃত অঞ্জলি দাও–
অনূঢ়া মানবীর প্রথম কম্পনে।

যারীন অধর কাঁপে, সাক্ষী এ বুক।
ত্রিকালান্ধ কাক হে–
আলতো ছুঁয়ে দেখো, সময় চিবুক!