চোখের আকাঙ্ক্ষা ওড়বার শরীরের অভিলাষ অন্ধ হবার
দুজনেই ছিন্ন করে অমোঘ শর্ত
হয়ে যায় দুটো পৃথক সত্তা
এইভাবে ওরা পায় স্বাধীনতা
স্বাধীনতা পেয়ে ওরা ভোগ করে সুখ যেমন ইচ্ছে
শরীর ছড়ায় কল্পনা অমৃতলোকে
চোখ মেলে ডানা মহাবিশ্বের ব্যাপ্তিতে
ভাবে হায় আমি বন্দী ছিলাম একবিন্দু অথর্ব শরীরে!
শরীর ভাবে গম্ভীর,এ আমার বোকামি ছিল আঁখিদ্বয়ে আস্থা রেখে
দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে চোখের প্রয়োজন তন্দ্রার
তাই তার প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়
সে নক্ষত্রপুঞ্জের কাছে বলে সবিনয়
প্রিয়,দিবে ঠাঁয় তোমার অক্ষিপুটে?
নক্ষত্রপুঞ্জ হাসে পরিহাস করে রুপালী নথ নেড়ে
নিরুপায় হয়ে তাই যায় সে চাঁদের দুয়ারে
চাঁদ বলে ভাই আমার চোখের দরকার নাই
আমিই রজনীময় অসীমে পথ দেখাই,
উপায় না পেয়ে সে আশ্রয় মাগে সূর্যের
প্রখর উত্তাপে বিপন্নজন সে পালায় কোনমতে
চোখ হারাবার পর অঙ্গ শ্রান্ত হয় রোদ পোড়া গুল্মের মতো
ভাবে মনে,’ কল্পনা’ চোখের চেয়ে ক্ষিপ্র বটে
তবে যে দেহের ছোঁয়ায় স্পন্দিত হয় কোষ কলা
মনের অলিন্দে ঝঙ্কৃত হয় নীরব সুর
সে কি পেয়েছে তা অলীক আলিঙ্গন থেকে?,
চোখ বিহীন জীবনে, হাঁপিয়ে উঠবার পর
শূন্য প্রাণে সে খুঁজে সজীবতার পরশ
মৃণালিনী সুরভি, মৌসুমী বায়ুর অবগাহনে,
পুনঃ জীবনের আস্বাদ পেতে ।
বহুপথ ঘুরে নিরুপায় হয়ে চোখ ফেরে দেহ-গৃহে স্বেচ্ছায় পরাধীন হতে
দীর্ঘ বিরহের পর পরম এ যুগল মিলনে ব্যাকুল হয়
তারা এখন জানে স্বাধীনতার মানে,
“স্বাধীনতা মানে নয় নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা
স্বাধীনতা মানে অনিবার্য শর্তে শোভিত পরাধীনতা।

