আমি কি ধরিত্রীযোগ্য? এই প্রশ্নে কেঁপে ওঠে তার অসুখের ঘূণ-লাগা শরীরের অসি’-মজ্জা হাড়। তাকে ঘিরে
কবিতা লেখার রাত ভিজে গেছে অঘ্রাণের উদাসীনতায়। সব ক্ষীপ্র অত্যুৎসাহে উদ্যোগে ও কর্মকান্ডে আজ লেগে
ধুপকাঠি বেচতে বেচতে কতদুর যেতে পারে একাকী মানুষ? তাকে তো পেরোতে হবে বহু বন, বহু
আমারই ভুলে আজ প্রত্যুষে সুর্য ওঠেনি, পাঁশুটে আকাশে আলোর আকাল আমারই ভুলে মুর্ছিত মেঘ, খোঁপা-ভাঙা
ভালবাসা, সেও আজ হয়ে গেছে ষড়যন্ত্রময়। নন্দিনী! এসব কথা তোমার কখনো মনে হয়? চক্রান্তের মত
গলির মোড়ে বেলা যে পড়ে এল পুরনো সুর ফেরিওলার ডাকে, দূরে বেতার বিছায় কোন্ মায়া
একটি কবিতা লেখা হবে। তার জন্যে আগুনের নীল শিখার মতন আকাশ রাগে রী-রী করে, সমুদ্রে
প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত শান-বাঁধানো ফুটপাতে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ কচি
তারপর যে-তে যে-তে যে-তে এক নদীর সঙ্গে দেখা। পায়ে তার ঘুঙুর বাঁধা পরনে উড়ু-উড়ু ঢেউয়ের