মানুষের পৃথিবীতে কোনো অন্ধকার নেই।
মানুষের চারপাশে শুধুই আলো এবং আলেয়া!
আলোর উৎসেও ভালোবাসা নামক কোনো নক্ষত্র নেই, কোনো সূর্য নেই অবিনাশী জীবনদায়িনী উত্তাপের! আলো আছে জোনাকির মতো, আলো আছে প্রবল ঝড়ে নিভুনিভু প্রদীপের মতো, আলো আছে তৈলবিহীন সলতের নিজেকে পোড়ানোর মতো।
মানুষের কতকটা নাম আলো।
মানুষের অবশিষ্ট নাম আলেয়া!
মানুষ বিভক্ত দ্বিধায়— হ্যাঁ এবং না, বিচ্ছিন্ন অথবা যুগপৎ।
মানুষ বিভক্ত ত্রিধায়— আমি, তুমি ও সে।
মানুষ বিভক্ত বহুধায়— কর্মে, বিশ্বাসে, যাপনে।
অথচ, দিনশেষে মানুষ সময়ের কালকূটে আত্মবিহারী, মত্ত রিরংসায় একটুকরো মাংস এবং মাংসল ক্লীব মাত্র!
মানুষ বহিঃচক্রে আলো এবং আলেয়ার মিশ্রণে এক দ্বান্দ্বিক দ্বৈরথ, ভেতরে ভেতরে নিরন্তর অন্ধকার, দ্বিধা ও স্বার্থের পাতালপুর!
মানুষ কখনো কখনো তাঁর কর্ম এবং মৃত্যুতে জীবন লাভ করে। তখন সে মাংসের উর্ধ্বে, তখন সে নিজেই লাস্য, তখন সে মাংসল দিগন্ত ছাড়িয়ে বহুদূর!
শুরু থেকে শেষে, আগমন থেকে প্রস্থানে, আপাত বিভক্ত মানুষ লাভ ও লোভে এক অবিভক্ত সত্তা। আপন সত্তার আত্মপরিচয়ের পরম মূহুর্তে তাঁর আলো এবং আলেয়ার অভিধান জুড়ে শুধু তিনটি শব্দের নিভৃত বসবাস- আমি, আমার ও আমাকে!
আমি স্বপ্ন নই!
আমার স্বপ্ন নেই!
আমাকে স্বপ্নে রাখে না কেউ!
মানুষ তাঁর যাপনচক্রের পথে এগিয়ে নেয় সময়ের রথ, কিংবা সময় তার রথের নিদারুণ চাকায় তৈরি করে মানুষের পথ! তখন সময়ের সাথে সাথে মানুষের পথ ও পাথেয় জুড়ে জমাট বাঁধে স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের সাপলুডু খেলাঘর!
স্বপ্নের নাম আলো।
স্বপ্নভঙ্গের নাম আলেয়া।
স্বপ্নহীনতার নাম অন্ধকার।
আসলেই—
মানুষের পৃথিবীতে কোনো অন্ধকার নেই।
মানুষের চারপাশে শুধুই আলো এবং আলেয়া!

