মসজিদে হররোজ দেখা মেলে তার
সৌম্য, শান্ত, জ্যোতির্ময় মুখমন্ডল মনোহর
যেন বেহেশতি জেল্লা ঠিকরে পড়ে
আমারও ইচ্ছে হয় আমি যেন প্রদীপ্ত হই তার মতো
প্লুত হই প্রার্থনায় প্রগাঢ়
একদিন আচমকা দেখা পেলাম তার কোন এক শুঁড়িখানায়
বরফকুচি দেয়া হাতে ঝলমল লাল মদের গ্লাস
কী অদ্ভুত রঙিন ঝলসে ওঠেন তিনি নিয়নের আলোয়
অদ্ভূত সুন্দর সুখ কন্যারা ছুঁয়ে দেয় ঠোঁট
তার নাভি তার বুক উষ্ণ চিবুক
জনতার ময়দানে তাকে দেখেছিলাম ফল্গু ধারায় গাইছেন মানবতার গান
যেন তিনি মার্টিন লুথার, মহাত্মা গান্ধী
কিংবা রবিশংকর হাতে নিয়ে বাঁশি
মানুষের তরে মানুষ যেন তিনি এক মানবহিতৈষী
তাকে দেখে আমার নেতা হবার হলো সাধ
কিন্তু যেই জনতার মঞ্চ ছেড়ে চলে আসি
মনে হয় এই জনতাই অপরূপ জীবনের উপদ্রব
আমি তাকে দেখেছিলাম বেশ্যালয়ে
চুপিসারে তিনি এখানেও আসেন? কী গল্প করেন তাদের সাথে?
একদিন আমার ইচ্ছে হলো বেশ্যালয়ে যাওয়ার
সেই থেকে আমি বেশ্যাদের অপরিহার্য খদ্দের
একদিন কেউ বললো তারে এই নিন টাকা
আমার লাশ চাই, লাশ! হ্যাঁ লাশ!
সেই মহান মানুষটি লাশ ফেলার কন্ট্র্যাক্ট নেন
নীরবে নিভৃতে লাশ ফেলে তিনি এখন কোটিপতি।
আমি আয়নায় আমাকে দেখে চমকে যাই,
কেমন যেনো ভয় ভয় হয়
যেন এই আমি, আমি নই অন্য কেউ
একদিন আমি একহাতে তালুবন্দি করি 9.mm পিস্তল
আরেক হাতে নতুন টাকার সুরভী বান্ডেল
চমকে গেলাম আমি যে হাতে শোভা পাওয়ার কথা ছিলো পুষ্প স্তবক
সেই হাতে মরণবীণ?
টাকার কাছে আমি কেমন যেন বদলে যাই বেশ্যার মতো চরিত্রহীন
একই আয়নায় বিচিত্র ঘটনায় কত দ্রæত বদলে যেতে থাকি
একই আয়নায় আমার কত বিচিত্র প্রতিফলন
পরনারীর কাছে চরিত্রহীন আমি
আর স্ত্রীর কাছে মহান স্বামী
আমি প্রতিবেশীর কাছে স্বার্থান্ধ মানুষ এক
বন্ধুর কাছে এক
আমি নির্জনে এক জনসমাবেশে আরেক
আমি আঁধারে এক আলোতে আরেক
আমি একই আয়নায় একই মানুষের অসংখ্য মুখের জাদু এক।

