নগরের কোন এক গলিতে পাথর মানবের দেখা
সে সময় সে নির্বিকার সিগারেট ফুঁকছিলো
নগরীর অর্ধেক তখন আগুনে পুড়ছিলো আর বাকি অর্ধেক ভ্রাতৃবোধে কাঁদছিলো
আমি অবাক হয়েছিলাম কিভাবে নগরের দূর্যোগে এমন স্বাভাবিক থাকে পাথর মানব?
কৌতূহল জেগেছিলো পাথর মানবদের জীবনপ্রণালী নিয়ে
সে কি কাঁদছিলো? আমি দেখার আগেই কি তার চোখে জল বাষ্প হয়েছিলো?
অবাক হয়ে লক্ষ্য করি তার চোখ খোদাই করা
কিন্তু ভাস্কর চোখের মণি খচিত করেনি কোন এক হেঁয়ালে
সে কি শুনতে পায়না মৃত্যুগামী মানুষের কানফাটা আর্তনাদ?
অবাক হয়ে দেখি পাথর মানবের কান খোদাই করা কিন্তু কর্ণকুহর নেই
সে কি জীবিত মানুষ পোড়া গন্ধ পায়না? কেঁপে ওঠে না তার অন্তরাত্মা?
দেখলাম তার নাক আছে কিন্তু নাসারন্ধ্র নেই
ভাবলাম কে জানে হয়তো তার হৃদপিন্ডও নেই
সেখানে তুরপুন চালালে হয়তো ভোঁতা শব্দ করে বেরিয়ে আসবে পাথরচূণর্,
পাথর মানব আমায় জানায় এই নগরে
এক পাথর মানবির সাথে তার মন দেয়ানেয়া চলছে
আমি বিস্ময়ে কেঁপে উঠি,
এই নগরে কোন পাথর মানবি থাকে তাতো জানতাম না?
সে নাকি শরতের চমৎকার এক দিনে তাকে বিয়ে করবে
পৃথিবীর সবচেয়ে দামী পাথরের মালা দিয়ে
আমি কল্পনায় পাথর মানবদের উত্তর প্রজন্ম দেখতে পাই
নগরীর পথ ধরে হাঁটছে শতশত পাথর মানব
তাদের পদভারে খটখট কেঁপে ওঠে শান্ত জনপদ।

