নিরুক্তি

(লেখক: অজ্ঞাত)

আমারে তুমি ভালবাসো না ব’লে,

দুঃখ আমি অবশ্যই পাই ;

কিন্তু তাতে বিষাদই শুধু আছে,

তাছাড়া কোন যাতনা, জ্বালা নাই ।।

জনমাবধি প্রণয়বিনিময়ে

অনেক বেলা হয়েছে অবসান ;

বেজেছে ফলে কেবলই বৃথা ব্যথা,

পারিনি কভু করিতে বরদান ।।

এ-ভুজমাঝে হাজার রূপবতী

আচম্বিতে প্রসাদ হারায়েছে ;

অমরা হতে দেবীরা সুধা এনে,

গরল নিয়ে নরকে চ’লে গেছে।।

অযুত নারী, তাদের প্রতিশোধে,

জাগায়ে লোভ হেনেছে অবহেলা ;

সাহারা,গোবি ছেয়েছে ভাঙা পণে,

মরমহিমা হয়েছে ছেলেখেলা ।।

অসূয়া বুকে করেছে মাতামাতি

ঝড়ের রাতে বিজুলিঝলাসম;

চিনেছি তাতে আপন নীচতারে,

টুটেছে মান, উঠেছে বেড়ে তম।।

মিলনে ক্ষুধা মিটেনি কোনও কালে ;

কামনা শেষে মিশেছে এসে কামে ।

অন্ধ আশা রুদ্র বিরহেরে

ভাববিলাসী করেছে পরিণামে ।।

হয়ত তাই তোমার অনাদরে

আজিকে আমি হই না বিচলিত ;

শিখেছি ঠেকে ব্যর্থ ভালোবাসা,

কালের কাছে অতনু পরাজিত ।।

হৃদয় তবু বিষাদে ভ’রে ওঠে

নিরুদ্দেশ শুন্যে যবে চাই ;

পাই না ভেবে শান্তিতে কি হবে,

সাধনাতে যে সিদ্ধি হেথা নাই।।

নন্দনের বদ্ধ দ্বার, জানি,

যাবে না খুলে তোমার করাঘাতে;

অমৃতযোগে প্রেতের কানাকানি ;

ঘুচাবে ভেদ তৃপ্তি-শোচনাতে ।।

তথাপি মিছে আত্মসমাহিতি ;

নিরাসক্তি আসক্তিরই ভেক ;

নাস্তি যার পৃষ্ঠে, পুরোভাগে,

সমান তার বিবেক, অবিবেক ।।

আত্মা সদা স্বগত,একা বটে,

তাই কি হেয় দেহের পরিচিতি?

থাক না তাতে তৃষিত অচিরতা,

বাকি যা-কিছু, সবই যে অনুমিতি ।।