আমার একটা দুঃখনদী আছে—
বেতস সাপের মতো আঁকাবাঁকা সবুজ দুঃখনদী!
সে নদীর দেহ জুড়ে কাকচক্ষু জল, সে নদীর হামাগুড়ি বুক, সে নদীর হিঙ্গুল জলে গোধূলির ছায়া, পোয়াতী ডাহুকের মতো সে নদীর ভরাট যৌবন! সে নদীর চোখের ভেতর ঘূর্ণিজল, দৃষ্টিতে সিকস্তির ডাক! সে নদীর অন্তর্বাস ছুঁয়ে ডুবে ডুবে ভেসে যায় অজস্র লতা, মাতাল শৈবাল, পরগাছা মাছ, অগুণিত নরম প্লাংকটন!
আমার দুঃখনদীর ছাউনি জুড়ে দুঃখচাঁদ!
সে চাঁদের গুমোট জোৎস্নায় গুমরে উঠে অব্যক্ত কষ্টের নিরেট জগদ্দল! নদী ও চাঁদের দুঃখেরা যখন বান ডাকে, তখন ফুলে ফুলে ফেঁপে ওঠে নদীর অভিমানী ঠোঁট, কষ্টের অভ্রজল!
আমার দুঃখনদীর উঠোন জুড়ে দুঃখসমুদ্র!
সে সমুদ্রের পেয়ালাজুড়ে উল্টে থাকে সময়ের বালুঘড়ি, মিহি উলুখড়! ভরা কটালে নদী ও সমুদ্রের দুঃখেরা যখন বান ডাকে, তখন দু’ কূল ভেঙ্গে উপচে পড়ে গভীরের লোনা জল, চুঁইয়ে চুঁইয়ে প্লাবিত হয় মীনাক্ষীর ঘাসবন, অপোগণ্ড বেলাভূমি!
এসো, আকিঞ্চন দুঃখচাঁদ, স্নানরত হও এ দুঃখনদীতে!
এসো, অবিরাম দুঃখসমুদ্র, সিক্ত হও এ রোদন জলে!
অতঃপর
সিক্ত স্নান শেষে দুঃখনদী হয়ে উঠুক—
ভালোবাসা, পারিজাত ভোর, সকল দুঃখভার
দুঃখসমাধি হবে হোক, নদী ও আমার!

