কবি ও কবিতা

ইউসুফ আলী

কবিতার সাথে আমার পরিচয় গ্রামীণ অমল বাতাসে
সুতীব্র তেজ নিয়ে পরম পলিমাটি ভেদ করে
বরবটি, শিম, লাউয়ের পুষ্ট বীজ
নারির উর্বর জননাঙ্গের মতো বিভাজিত হয়ে দোলখাওয়া তরুণ উদ্ভিদের উদ্ভিন্ন উচ্ছ্বাসে
অদ্ভুত সুন্দর হলুদ আলোর ঢেউয়ে- গাঙের ওপারে ঘন বনে- তীব্র ঝাঁঝালো বুনো বেগুনি ফুলের সমারোহে,
বটে, অশ্বত্থে পাখিদের কলতানে
বেজি, বন বিড়াল, গন্ধগোকুল, নবান্নের মৌতাতে
কাব্য মধুগ্রন্থির বর্ণালি বিন্যাস।
কবিগণ মৌমাছির মতো সারাদিন পইপই করে এইসব মধুগ্রন্থি থেকে কুড়িয়ে নেন একটি দুটো সুমিষ্ট শব্দ- কাব্যের মৌচাক রুপায়ণে
সেই থেকে আমি জানি কবিরা কেমন হয়
কবিরা সিক্ত হন বিরল সুখে- পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধতায়
কবিরা হন কৃষকের মাচানে বিস্ফোরিত মিষ্টি কুমড়োর মতো পরিমল
কবিরা হন একান্ত নিবিড় মাছরাঙা পাখির স্বচ্ছ চোখের মতো প্রদীপ্ত
কবিরা হন ভাটিয়ালি গানের মতো সরল আত্মীক বৈভবে সমৃদ্ধ
কবিরা হন উদাসী মাঝির ধারালো বৈঠার মতো
উন্মন জলরাশি কেটে যে তৈরী করে যুগ যুগ ধরে জল জীবনের গল্প
কবিরা হন উদার প্রেমিক যাদের থাকে শ্রমিক আর বুভুক্ষু মানুষের সাথে সখ্যতা
কবিরা খুঁজে ফেরেন পরম আরাধ্য সুখ জ্যোছনার মতো নরোম উষ্ণতা।