আমার দাহ আমার হাত

(লেখক: অজ্ঞাত)

কোনো একদিন উত্তপ্ত লোহার ঘর্ষণে প্রতিশ্রুতির শরীর ভেঙে
প্রার্থনার শেষ উচ্চারণ বিনষ্ট বাতাসের মতো
প্রবল বেগে ছুটেছিল—
আমি অন্ধকারে সর্বাঙ্গ লেলিহান শিখায় তপ্ত করে
অনন্ত প্রতিক্ষায় উন্মুখ হয়েছিলাম,
নিঃশব্দ রাত, আমার চারপাশের মানুষ, বিনিদ্র যন্ত্রণার মুহূর্ত
এর চেয়ে বড় বেশী মৃত্যু ও জন্মের সন্ধিক্ষণে কাঁপছিল-
আমার নির্ঘুম চোখে সে কি বিষের মরণ কামড়!
চাঁদ কোথায় লুকিয়ে মুখ আমার সমস্ত জীবনের পটভ‚মি
পালটে দিয়ে কবরের অন্ধকারে নিয়তির বয়স লেপে দিল,
আমাদের চারপাশের জ্যোৎস্না ডুবে গেল—
আমি মানুষের সঙ্গে পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলাম
আপন আত্মাকে অস্বীকার করে নিথর ক্ষতের
মতো তৈলচিত্র হয়ে গেলাম যেন
আমার বিশ্বাস, পবিত্র সাহস কি নির্মম দাহের স্রোতে
জল-প্রপাতের মতো
পিপাসার আজন্ম বাসনাকে ঠেলে দিল।
সেইতো আমার দাহ—আমার জন্মের উচ্চারণ…
পাথর কি ধারণ করতে পারে সবটুকু জল— যন্ত্রণা।
আকাশ কি বনভ‚মি হয়ে যেতে পারে— এক মুহূর্তে!
আহা আমি কাকে বলব—
আমার সর্বাঙ্গে লেপন করো সভ্যতার কষ্ট
অঙ্কণ করো তৈলচিত্র—-!
অকস্মাৎ কি ভীষণ চিৎকার সভ্যতার রাজদূত নেমে এলো,
ভগ্ন ইচ্ছেরা বালিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো—-
যেন আমার সমস্ত স্বপ্নকে দাবানলে দাউদাউ জ্বালিয়ে দেবে
নরকের লেলিহান শিখায় সমস্ত মাঠ-ঘাট
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে—
আমার শিশির-ভেজা ঘাস-ফসল,
আমার মাটি, ভালোবাসার জন্মভ‚মি—-
কি এলোমেলো মস্ত বাসাতে খুলে গেলো কপাট।
রাজদূতের চিৎকার– লকলকে আগুন
কোন দিনই জীবনের দাহ হয়ে থাকতে পারে না
আমি তখন রাশি রাশি মেঘের মতো ঘুমকে প্রার্থনা করলুম।
তবুও কি ঘুম আসে চোখে!
কি যেন চিৎকার, কি যেন কষ্ট, শরীরের জমিনে
কি যেন বিষাক্ত ফসল পোকারা কুরে কুরে নষ্ট করে দিচ্ছে।
সভ্যতা তুমি মারণাস্ত্রে রক্তপাত ঘটাও, যেন খুব শান্তিপ্রিয়
মানুষ তার ভীষণ অজ্ঞতায় নীরব—
বৃক্ষের স্বভাবে আমি বনভ‚মিকে ডেকে বললামঃ
দাহের সোনালী গুচ্ছ আমি কষ্টের ফসল রোপন করেছি