রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, নৃত্যনাট্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা, ভ্রমণকাহিনী, চিঠি
উপন্যাস-করুণা, বৌ-ঠাকুরাণীর হাট, রাজর্ষি, চোখের বালি, নৌকাডুবি, প্রজাপতির নির্বন্ধ, গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, মালঞ্চ, চার অধ্যায় কবিতা সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, গীতাঞ্জলি, বলাকা, পূরবী, মহুয়া, কল্পনা, ক্ষণিকা, পুনশ্চ, পত্রপুট, সেঁজুতি, ভগ্নহৃদয়। ছোটগল্প দেনা পাওনা, পোস্টমাস্টার, দানপ্রতিদান- ইত্যাদি। নৃত্যনাট্য-নটীর পূজা, শ্যামা, চন্ডালিকা ইত্যাদি। প্রবন্ধ-কর্তার ইচ্ছায় কর্ম, সভ্যতার সংকট, দেশনায়ক ইত্যাদি। ভ্রমণ কাহিনী-রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র ইত্যাদি। জীবনীমূলক-ছেলেবেলা, চরিত্রপূজা ইত্যাদি। সঙ্গীত-গীতবিতান
নোবেল- ১৯১৩ নাইটহুড-১৯১৫(প্রত্যাখ্যাত)
সাহিত্যিক পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃপুরুষের আবাসভূমি বাংলাদেশের খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার অন্তর্গত ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ গ্রামে।
তিনিছিলেন একাধারে বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।
শিক্ষাজীবন
বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।[২৩] আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
কর্মজীবন
বংশের জমিদারি পরিচালনা করতেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন।
১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাহিত্যকর্ম
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যেখানে তার বিচরণ ছিল না। আসাধারণ তার সাহিত্যকর্ম। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয় তাকে।
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থের সংখা ৫২টি। তার ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন যার অধিকাংশ তার জীবদ্দশায় এবং কিছু তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা ১৯১৫। তার সবগুলো ছোটগল্প ও গান গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতানে অন্তর্ভুক্ত।
রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য ১৯ খণ্ডে ‘চিঠিপত্র’সংকলনে ও অন্য চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রায় দু’হাজার ছবি একেছেন। তার বিভিন্ন রচনা বিশ্বের নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে ও হচ্ছে।
১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন।[ ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তার মৃত্যু হয়।
