সৈয়দ শামসুল হক

কবিতা, উপন্যাস, কাব্যনাট্য, ছোট গল্প, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, অনুবাদ।
ছোট গল্প-তাস (১৯৫৪), শীত বিকেল (১৯৫৯), প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান (১৯৮২) ইত্যাদি। কবিতা-পরাণের গহীন ভিতর (১৯৮০), বেজান শহরের জন্য কোরাস (১৯৮৯), একদা এক রাজ্যে (১৯৬১), আমি জন্মগ্রহণ করিনি (১৯৯০), কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে (১৯৯০), অগ্নি ও জলের কবিতা (১৯৮৯)- ইত্যাদি। উপন্যাস- এক মহিলার ছবি (১৯৫৯), অনুপম দিন (১৯৬২), বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল (১৯৮৯), বালিকার চন্দ্রযান, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী- ইত্যাদি। কাব্যনাট্য- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬,), নুরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২), গণনায়ক (১৯৭৬)-ইত্যাদি। প্রবন্ধ-হৃৎ কলমের টানে (১ম খণ্ড ১৯৯১, ২য় খণ্ড ১৯৯৫) অনুবাদ- শ্রাবণ রাজা (১৯৬৯), টেম্পেস্ট। শিশুসাহিত্য-সীমান্তের সিংহাসন (১৯৮৮),
বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৬ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, ১৯৮২, ১৯৮৩ একুশে পদক, ১৯৮৪ টেনাশিনাস পদক, ১৯৯০ স্বাধীনতা পুরস্কার , ২০০০
সাহিত্যিক পরিচিতি
সৈয়দ শামসুল হক (বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। তার লেখকজীবন প্রায় ৬২ বছর ব্যাপী বিস্তৃত।
প্রাথমিক জীবন
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।[৪] তার বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও মা হালিমা খাতুন। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। সৈয়দ হক তার বাবা-মায়ের আট সন্তানের জ্যেষ্ঠতম।
শিক্ষা জীবন
সৈয়দ হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। এরপর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে সৈয়দ শামসুল হক ম্যাট্রিক (বর্তমানের এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
পিতার ইচ্ছা ছিল তাকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। পিতার ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করে তিনি ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে বম্বে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বছরখানেকের বেশি সময় এক সিনেমা প্রডাকশন হাউসে সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সনে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
কর্মজীবন
সৈয়দ হক তার বাবা মারা যাবার পর অর্থকষ্টে পড়লে চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মাটির পাহাড় চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেন। পরে তোমার আমার, শীত বিকেল, কাঁচ কাটা হীরে, ক খ গ ঘ ঙ, বড় ভাল লোক ছিল, পুরস্কারসহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেন। বড় ভাল লোক ছিল ও পুরস্কার নামে দুটি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ত্যাগ করে লন্ডন চলে যান এবং সেখানে বিবিসির বাংলা খবর পাঠক হিসেবে চাকুরি গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসর্মপণের খবরটি পাঠ করেছিলেন। পরে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিবিসি বাংলার প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দৃঢ়কণ্ঠ সাবলীল উচ্চারণের জন্য তিনি জনসাধারণ্যে পরিচিতি লাভ করেন।
সাহিত্যকর্ম
সব্যসাচী এই লেখক বহু কবিতা, উপন্যাস, কাব্যনাট্য, ছোট গল্প, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য লিখেছেন, বেশ কিছু অনুবাদ করেছেন।
