হুমায়ুন আজাদ

কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, কিশোরসাহিত্য, প্রবন্ধ,ভাষাবিজ্ঞান
কবিতা-অলৌকিক ইস্টিমার, জ্বলো চিতাবাঘ, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল, আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে, কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু, পেরোনোর কিছু নেই। গল্প-অনবরত তুষারপাত, যাদুকরের মৃত্যু, বুকপকেটে জোনাকি পোকা। উপন্যাস- ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, সব কিছু ভেঙে পড়ে, মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ, কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ, ১০,০০০, এবং আরো ১টি ধর্ষণ, পাক সার জমিন সাদ বাদ, একটি খুনের স্বপ্ন, ফালি ফালি ক’রে কাটা চাঁদ, নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু প্রবন্ধ-লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী, 'রবীন্দ্রপ্রবন্ধ: রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা, নারী, দ্বিতীয় লিঙ্গ, আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম ভাষাবিজ্ঞান- চম্স্কি-উদ্ভাবিত রূপান্তরমূলক সৃষ্টিশীল ব্যাকরণ, বাক্যতত্ত্ব, বাঙলা ভাষা, তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান, অর্থবিজ্ঞান
বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু সাহিত্য পুরস্কার, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার
সাহিত্যিক পরিচিতি
হুমায়ুন আজাদ একজন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক, রাজনীতিক ভাষ্যকার, কিশোরসাহিত্যিক, গবেষক, এবং অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্ম, মৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, যৌনতা, নারীবাদ ও রাজনীতি বিষয়ে তার বক্তব্যের জন্য ১৯৮০-এর দশক থেকে পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন-
হুমায়ুন আজাদ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার জন্মগ্রহণ করেন।
তার বাবা আবদুর রাশেদ প্রথম জীবনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও পোস্টমাস্টার পদে চাকরি করতেন,পরে ব্যবসায়ী হন। মা জোবেদা খাতুন ছিলেন গৃহিণী।
১৯৫২ সালে আজাদ দক্ষিণ রাড়িখাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইনফ্যান্ট (প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা) শ্রেণীতে ভর্তি হন।
১৯৬৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে ভাষাবিজ্ঞান পড়তে স্কটল্যান্ডে চলে যান। ১৯৭৬ সালে তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলা ভাষায় সর্বনামীয়করণ।
কর্মজীবন
১৯৬৯ সালে তার কর্মজীবন শুরু হয় চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিসেবে।
এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, একে একে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।
১৯৮৬ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
মৃত্যু
হুমায়ুন আজাদকে দেশের প্রধান প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। গতানুগতিক চিন্তাকে তিনি সচেতনভাবেই পরিহার করেছেন। তিনি জনপ্রিয় তবে অতি বিতর্কিত সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি যা ভাবতেন তাই সাহসের সঙ্গে লিখতেন ফলে তিনি অনেকেরই বিরাগভাজন হন। এক পর্যায়ে তিনি মৌলবাদীদের কর্তৃক মারাত্মকভাবে আহত হন।
তাঁর নারী (১৯৯২), দ্বিতীয় লিঙ্গ (২০০১), পাক সার জমীন সাদ বাদ (২০০৩) গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং এরই এক পর্যায়ে সরকার বই তিনটিকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন লেখক হুমায়ুন আজাদ। তাই অতিসংগোপনে জার্মানিতে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু মিউনিখে পৌঁছবার ৪ দিনের মাথায় ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
